সুনামগঞ্জ , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা

হাওরের ধান, কৃষকের কান্না : পরিকল্পনার অভাবে চতুর্মুখী সংকট

  • আপলোড সময় : ২৯-০৪-২০২৬ ১০:৩০:০৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-০৪-২০২৬ ১০:৩০:০৬ পূর্বাহ্ন
হাওরের ধান, কৃষকের কান্না : পরিকল্পনার অভাবে চতুর্মুখী সংকট
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে চলমান পরিস্থিতি শুধু একটি মৌসুমি সংকট নয় - এটি আমাদের কৃষি ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতার প্রকাশ। ধান কাটা মৌসুমে এসে কৃষক যখন একযোগে বৃষ্টি, বজ্রপাত, শ্রমিক সংকট ও সম্ভাব্য বন্যার মুখে পড়ে, তখন এটিকে নিছক প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। বরং এটি পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের ঘাটতির সম্মিলিত ফল। হাওরের কৃষক আজ “চতুর্মুখী বিপদে” পড়েছেন - এই শব্দবন্ধ কোনো অতিরঞ্জন নয়, বাস্তবতারই প্রতিফলন। একদিকে টানা বৃষ্টিতে পাকা ধান কাটতে পারছেন না, অন্যদিকে কাটলেও শুকাতে না পারায় অংকুর গজিয়ে নষ্ট হচ্ছে। জমিতে পানি জমে থাকায় আধুনিক কৃষিযন্ত্রও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শ্রমিক সংকট ও অস্বাভাবিক উচ্চ মজুরি, যা কৃষকের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে কৃষক এখন শুধু ফসল রক্ষার লড়াই করছেন না, বরং অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে নেমেছেন। এর চেয়েও উদ্বেগজনক বিষয় হলো আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উজানে ভারি বৃষ্টিপাত হলে হাওরের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধ উপচে পড়তে পারে। প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হলেও শেষ মুহূর্তে সেই বাঁধের টেকসই সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। যদি আবারও ফসল ডুবে যায়, তাহলে তা শুধু কৃষকের নয়, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও বড় আঘাত হানবে। একই সঙ্গে বজ্রপাতের ভয়াবহতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মাঠে ধান কাটতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যুর ঘটনা এখন প্রায় নিয়মিত। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল। বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করা হলেও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা এখনও দৃশ্যমান নয়। আশ্রয়কেন্দ্র, বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা কিংবা আগাম সতর্কীকরণ - সবই এখনো পরিকল্পনার স্তরেই সীমাবদ্ধ। আমরা মনে করি, এই প্রেক্ষাপটে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। প্রথমত, হাওরাঞ্চলে দ্রুত ধান কাটার জন্য সমন্বিত জরুরি কর্মসূচি নিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে শ্রমিক সরবরাহ, কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ এবং পরিবহন সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কাটা ধান সংরক্ষণ ও শুকানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা - যেমন অস্থায়ী শুকানোর প্ল্যাটফর্ম বা মোবাইল ড্রায়ার - প্রবর্তন করা জরুরি। তৃতীয়ত, হাওর রক্ষা বাঁধগুলোর তাৎক্ষণিক তদারকি জোরদার করতে হবে। দুর্বল অংশ দ্রুত মেরামত এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। চতুর্থত, বজ্রপাত থেকে সুরক্ষায় বাস্তবমুখী উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতিটি হাওরে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বজ্রনিরোধক দ- স্থাপন এবং কার্যকর আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালু করা এখন সময়ের দাবি। সবশেষে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দ্রুত আর্থিক সহায়তা ও প্রণোদনা ঘোষণা করা জরুরি, যাতে তারা পরবর্তী মৌসুমে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। হাওরের কৃষক শুধু একটি অঞ্চলের মানুষ নন; তারা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম স্তম্ভ। তাদের এই দুর্দশা উপেক্ষা করা মানে ভবিষ্যতের বৃহত্তর সংকটকে আমন্ত্রণ জানানো। তাই এখনই সময়- কথা নয়, কার্যকর পদক্ষেপের।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য